তানোরে পাম্পে তেল আসার একদিন আগেই মটরসাইকেলের লম্বা লাইন
তানোরে পাম্পে তেল আসার একদিন আগেই মটরসাইকেলের লম্বা লাইন
দেলোয়ার হোসেন তানোর :
রাজশাহীর তানোরে তেল আসার আগের দিন থেকেই পাম্প গুলোর সামনে লম্বা লাইনে মটরসাইকেল নিয়ে দাড়িয়ে যাচ্ছেন চালকরা। এতে রাস্তা গুলোতে যানজট ও ভোহান্তি সৃষ্টি হচ্ছে।
গত প্রায় ২০ দিন ধরে এমন দৃশ্য সারা দেশের ন্যায় তানোর উপজেলার ৪ টি পাম্পের সামনে এমন দৃশ্য চোখে পড়ছে। পাম্প গুলোর মালিকরা বলছেন আগে গাড়ী ভর্তি তেল (সাড়ে ১৩ হাজার লিটার) পেতাম আর এখন ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে ৪ থেকে ৬ হাজার লিটার আর পেট্রোল পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৩ হাজার লিটার। তেল আনতে (বহনে) গাড়ীর খরচ ঠিকই হচ্ছে কিন্তু তেল কম আসছে যা চাহিদার তুলনায় অনেক কম।
বৃহস্প্রতিবার বিকালে মুণ্ডমালা শাহীন ফিলিং স্টেশনের সামনে মটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইনে দাড়িয়েছেন শতাধিক মটরসাইকেলসহ চালকরা। কথা হয়, পাম্পের ম্যানেজার তারেক রহমানের সাথে। তিনি বলেন, তেল নিতে গাড়ী পাঠানো হয়েছে আসতে অনেক রাত হবে। আগামীকাল (আজ) শুক্রবার সকাল ৮টার পর থেকে তেল দেয়া হবে এমন খবরে আজ গতকার বৃহস্পতিবার বিকাল থেকেই মটরসাইকেল চালকরা লাইনে দাড়িয়ে যাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে আমরা খুবই বিব্রতকর পরিস্থিতে পড়ছি। তিনি বলেন, পেট্রোল পাওয়া যাচ্ছে ৩ হাজার লিটার আর ডিজেল ৬ হাজার লিটার যা চাহিদার তুলনায় অনেক কম বলেও জানান তিনি।
মটরসাইকেল নিয়ে লাইনে দাড়ানো এক এনজিও কর্মি মাসুদ রানা বলেন, মটরসাইকেলের তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় ফিন্ডে যেতে পারছিনা এবং অফিসের কাজের জন্য পাম্পের লাইনেও দাড়ানো সম্ভব হয়ে উঠেনি। শুক্রবার ছুটির দিনে তেল দিবে এমন খবর শুনে মটরসাইকেল নিয়ে লাইনে রাখলাম। লাইনে মটরসাইকেল রাখা আরেক চালক নাজিমুদ্দীন বলেন, মটরসাইকেলের তেল না থাকায় গাড়ী বন্ধছিলো তেল দিবে শুনে আজই লাইনে দাড়ালাম।
লাইনে দাড়ানো মটরসাইকেলের একাধিক চালক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, আমরা যারা সহজ সরল দুর্বল প্রকৃতির মানুষ তারা দীর্ঘ সময় লাইনে দাড়িয়ে থেকেও তেল পাচ্ছিনা। তিনি তেলের বরাদ্ধ বাড়িয়ে দেয়ার দাবি জানিয়েছেন।
মটরসাইকেল চালকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে আরো বলেছেন, লাইনে দাড়ানো মটরসাইকেল চালকরা তেল পাচ্ছিনা অথচ অনেকেই বোতলে তেল নিয়ে যাচ্ছেন বোতলে তেল না দেয়া এবং ট্যাংকিতে পর্যাপ্ত তেল থাকার পরও মটরসাইকেল নিয়ে লাইনে দাড়াচ্ছেন তাদেরকে তেল না দেয়ার দাবি জানিয়েছেন। সরকারের কাছে তেলের বরাদ্ধ বাড়ানোর পাশাপাশি যারা মজুদ করছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি ও হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এবিষয়ে শাহীন ফিলিং স্টেশনের পরিচালক মোজাম্মেল হক বলেন, তেল আসার পর ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতিতে নিয়ম অনুযায়ী তেল বিক্রি করা হবে এখানে কোন অনিয়ম হবেনা।
নিউজটি আপডেট করেছেন :
[email protected]
কমেন্ট বক্স